
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের বাজেহরা উত্তরপাড়ায় বিরিয়ানি পার্টিতে উচ্চ শব্দে স্পিকার বাজানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর বাবাকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা, মারধর, অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এলাকায় ভালোভাবে চলাফেরা ও বসবাস করতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগের তীর স্থানীয় আসাদুজ্জামান আলমগীর, মো. ফয়সাল আহমেদ, মো. শাওন ও মো. হৃদয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসীর বাবা এবং স্থানীয় প্রতিবেশী আব্দুল হালিম বুড়িচং থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২৮ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বাজেহরা উত্তরপাড়ায় একটি বিরিয়ানি পার্টিতে উচ্চ শব্দে স্পিকার বাজানো হচ্ছিল। এতে আশপাশের মানুষের অসুবিধা হচ্ছিল। পাশাপাশি ওই এলাকায় একটি কবরস্থান থাকায় গভীর রাতে উচ্চ শব্দে স্পিকার বাজানোর কারণে পরিবেশের স্বাভাবিকতা ও ধর্মীয় অনুভূতিতেও ব্যাঘাত ঘটছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ কারণে সাব্বির ও রিমন সেখানে গিয়ে স্পিকারের শব্দ কমানোর জন্য অনুরোধ করেন।
এ সময় আসাদুজ্জামান আলমগীর ও তার ছেলে মো. শাওনের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ২৯ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে এক ফ্রান্সপ্রবাসী তার ছেলেকে বিদায় দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বাজেহরা উত্তরপাড়ার রাস্তায় আসাদুজ্জামান আলমগীর, মো. ফয়সাল আহমেদ, মো. শাওন ও মো. হৃদয়সহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। এ সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে আঘাত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। তাকে মারধরের চেষ্টা, অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ সময় তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে এলাকায় কীভাবে তারা চলাফেরা ও বসবাস করেন, তা দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার পর থেকে প্রবাসীর বাবা-মা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছে পরিবারটি। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রবাসে থাকা সন্তানদের নিয়ে এমনিতেই তারা উদ্বিগ্ন থাকেন। এর মধ্যে দেশে থাকা মা-বাবার ওপর হামলার চেষ্টা, হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিবারটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কারও সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চান না। শান্তিপূর্ণভাবে এলাকায় বসবাস করতে চান এবং তাদের মা-বাবা যেন নিজ বাড়িতে নিরাপদে থাকতে পারেন, সেটিই তাদের প্রধান দাবি।
এদিকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয় প্রতিবেশী আব্দুল হালিমও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার অভিযোগ, বিরোধের বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে তিনি এগিয়ে গেলে আসাদুজ্জামান আলমগীর, মো. ফয়সাল আহমেদ, মো. শাওন ও মো. হৃদয়ের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাকে হামলার শিকার হতে হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে আব্দুল হালিমও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মঞ্জুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
তবে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান আলমগীর, মো. ফয়সাল আহমেদ, মো. শাওন ও মো. হৃদয়ের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, স্পিকারের শব্দ কমানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ থেকে হামলার চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং প্রবাসীর মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।