কুমিল্লার ময়নামতি এলাকার বাজেহোরা উত্তর পাড়ার বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেন (৪১) একসময় ছিলেন পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও স্বপ্নবান একজন মানুষ। সংসারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য গড়ে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন তিনি। কিন্তু ২০১৩ সালের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা যেন তার জীবনকে বদলে দিয়েছে পুরোপুরি। কর্মস্থলে কাজের সময় পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন ইকবাল হোসেন। সেই ঘটনার পর থেকে তার শারীরিক সুস্থতা আর পুরোপুরি ফিরে আসেনি।দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে শেষ সম্বলও প্রায় শেষ হয়ে গেছে। অসুস্থ শরীর নিয়ে প্রতিদিনের জীবনের দায়ভার বহন করা তার জন্য দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। একদিকে শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তিনি লড়াই করছেন। তিন ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার স্বপ্ন আজও বুকে লালন করেন তিনি, কিন্তু নিঃস্ব অবস্থায় সে স্বপ্নের আলো যেন বারবার ম্লান হয়ে আসে।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ময়নামতি প্রবাসী কল্যাণ সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান তার পাশে দাঁড়ান। সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু অর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয় ইকবাল হোসেনের হাতে। সহায়তার মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। তার চোখে-মুখে ফুটে ওঠে এক ঝলক আশার আলো।সংগঠনটির দায়িত্বশীলরা জানান, সমাজের বিভিন্ন স্তরের হৃদয়বান মানুষ যদি এই সংগ্রামী পিতার পাশে দাঁড়ান, তবে তিনি কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন। সামান্য সহায়তাও তার সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ও পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।মানবিক সহায়তা পাঠাতে চাইলে যোগাযোগ করা যেতে পারে মো. ইকবাল হোসেনের বিকাশ নম্বরে: 01967346889।
সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনে যখন অন্ধকার নেমে আসে, তখন সামর্থ্যবানদের সহযোগিতার হাতই হতে পারে নতুন ভোরের সূচনা। মো. ইকবাল হোসেনের মতো অনেকেই আছেন, যারা দুর্ঘটনা বা প্রতিকূলতার কাছে হার মানেন না, কিন্তু লড়াই চালিয়ে যেতে তাদের প্রয়োজন একটু সহমর্মিতা ও ভালোবাসা।একটি ছোট সহায়তাই হয়তো তিন সন্তানের হাসি ফিরিয়ে আনতে পারে, আলোকিত করতে পারে সংগ্রামী এক পিতার জীবনের আঙিনা।